জাকির সিকদার : সাভারে সম্প্রতি হত্যা, অপহরণ, চাদাঁবাজী ও ছিনতাইয়ের সহ একাধিক অপরাধমূলক কার্যক্রম সংঘটিত হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়ে পড়েছে। যা বিগত বছরের পরিসংখ্যানকে পিছনে ফেলেছে। এতে পুরো উপজেলা জুড়ে এখন আতংক বিরাজ করছে।
গত বুধবার আশুলিয়া থানাধীন বাড়ই পাড়ায় চেকপোষ্টে কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশ সদস্য মুকুল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ভীতির সঞ্চার করছে। অপরদিকে পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনীতে আগেরদিন মঙ্গলবার দুপুরে প্রকাশ্যে ব্যাংক থেকে তুলে আনা ২২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
যেখানে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরাই নিরাপদ নয় সেখানে সাধারণ জনগনের নিরাপত্তা কোথায়? এলাকার একাধিক ব্যাক্তি মন্তব্য এরকমটাই।
তাদের বক্তব্য, আমরা আছি একদিকে অপরাধীদের ভয়ে আতংকিত, অপরদিকে অপরাধ সংঘটনের পরবর্তী সময়ে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের নামে মামলা দায়েরের পর আসামী গ্রেফতারে অভিযানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একপ্রকার অসাধু কর্মকর্তাদের হাতে অহেতুক নাজেহাল বা হয়রানীর শিকার হওয়া।
একারনে জরুরী কাজ ব্যাতীরেকে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে।
পুলিশ সদস্য হত্যাকান্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে অজ্ঞাতনামা আসামী করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা (নং-৮) দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুলিশের চৌকস কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার ওসি তদন্ত দীপক কুমার সাহাকে।
অপরাধীদের সনাক্তকরন ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দাসহ বিভিন্ন বাহিনী একযোগে কাজ করছেন বলে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়াও ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুর রহমানকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির এসপি মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
হত্যাকান্ডে জড়িতদের আটকের জন্য সাভার উপজেলার মহাসড়ক ও এলাকার ভিতরে বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনে তল্লাশি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আশুলিয়া থানা এলাকাসহ এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে পুরো উপজেলা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের ইসলামী ব্যাংক থেকে তোলা জমি রেজিস্ট্রীর ২২ লাখ টাকা ব্যাংক কলোনী এলাকা থেকে দুটি মোটর সাইকেল যোগে দুর্বত্তরা অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জমি ক্রেতার ভাই হাবিব ও সাইদুর এবং দলিল লেখক মোস্তাককে আটক করে পুলিশ। একদিন পুলিশ হেফাজতে থাকার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
অাসামী অজ্ঞাত তাই পুরো ব্যাংক কলোনীসহ সাভার সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে আগত মোটর সাইকেল তল্লাশী করছেন পুলিশের একাধিক টিম। এতে একাধিক সংবাদকর্মীর মোটর সাইকেলও তল্লাশীর আওতায় পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাভার মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাসেল শেখ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দলিল লেখকসহ জমি ক্রেতার দুই ভাইকে আটক করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু পাওয়া যায়নি। তল্লাশী বা গ্রেফতার অভিযানে সাধারণ কেউ যাতে হয়রানী না হয় সে বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া আছে। যদি কাউকে অহেতুক হয়রানী করা হয় তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।











